মহিলাদের তালিমের আদব এর মোজাকারা
তালিম শব্দের অর্থ কি?
তালিম মানে শিখা-শিখানো, জানা-জানানো। হুজুর (সঃ) এর জামানায় মসজিদে নববীতে যে সমস্ত আমল চালু ছিল তার মধ্যে তালিম ছিল অন্যতম।
তালিমের জন্য সবচেয়ে জরুরী বিষয় হল তলব বা আগ্রহ। অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে যে বাচ্চা কান্না করে তার স্বাস্থ্য ভাল থাকে।
তালিমের গুরুত্ত্বঃ-
বেশীর ভাগ সাহাবায়ে কেরামগণ ছিলেন উম্মী। আমাদের জামানার মত সে জামানায় হাদীসের কিতাবও ছিল না। তাই হুজুরের দরবারে যে সমস্ত সাহাবা (রাঃ) সর্বক্ষন উপস্থিত থাকতেন হুজুরের কথাগুলো অনুপস্থিতদের নিকট পৌছিয়ে দেওয়াটা পবিত্র দায়িত্ব মনে করতেন। আর যারা অনুপস্থিত ছিলেন তারাও আগ্রহ করে জেনে নিতেন।
হযরত ওমর (রাঃ) হজ্জের মৌসুমে তওয়াফের সময় নিজে দুয়া করা বাদ দিয়ে এক লোককে তাশাহুদ শিখিয়ে দিয়েছেন।
হাদীসের দরসের সময় ইমাম মালেক (রঃ) এর চেহারা হঠাৎ বিষন্ন হয়ে উঠে। বিষন্নতার কারণ তখন কাউকে বুঝতে দেন নি। দরস শেষে কারণ জিজ্ঞাসা করলে দেখা গেল এক বিচ্ছু জামার মধ্যে ঢুকে ১৬ যায়গায় দংশন করেছে। এজন্যই উলাময়ে কেরাম বলেন বয়ানের চেয়ে তালিমের গুরুত্ব বেশী।
তালিমের উদ্দেশ্যঃ-
ফাযায়েলে আমালের বর্ণনা শুনার দ্ধারা দিলে আল্লাহ তায়ালা এবং তাঁর রাসুলের ওয়াদা এবং ওয়ায়িদ (ধমকি)- এর উপর একীন পয়দা করা। ফাযায়েলে আমালের বর্ণনা শুনার দ্ধারা দ্বিনী আমলের শখ বা আগ্রহ পয়দা করা।
তালিমে বসার আদব :-
অযুর সাথে বসা। সুন্নত তরীকায় মোজাহাদার সাথে বসা। জরুরত থেকে ফারেগ হয়ে বসা। গায়ে গায়ে লেগে বসা। গোলাকার হয়ে বসা। দিলকে খালি করে বসা। হেদায়েতের মোহতাজ হয়ে বসা। সম্ভব হলে দুই রাকাত নামাজ পড়ে বসা। সুগন্ধি লাগিয়ে বসা।
তালিম শোনার আদব :-
তালিম শুনার সময় একথার খুব খেয়াল রাখা যে, আল্লাহ তায়ালা যত বড় আল্লাহ তায়ালার কথাও তত বড়, নবী করিম (সঃ) এর শান যত বড় নবী করিম (সঃ) এর কথাও তত শানদার। এজন্য দিলের কানে শুনা অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালার ধ্যানে শুনা। নিজে আমল করার নিয়তে শুনা। অপরের কাছে পৌঁছানোর নিয়তে শুনা। সু-সংবাদে সুবহানাল্লাহ বা আলহামদুলিল্লাহ বলা। আযাব বা ভয়ের কথা শুনলে নাউজুবিল্লাহ বা আস্তাগফিরুল্লাহ বলা। আল্লাহর নাম শুনে আল্লাহ জালা শানহু। নবীজির নাম শুনলে (সঃ) দরুদ পড়া। অন্য নবীর নাম শুনলে (আঃ) বলা। সাহাবীদের নাম শুনলে (রাযিঃ) বলা।
তালিমে বসার ফযিলতঃ-
অজ্ঞতা দুর হয়। নেক আমলের আগ্রহ পয়দা হয়। আসমানী এলেমের নুর হাসিল হয়। সকিনা অবতীর্ন হয়। ফেরেশতারা বেষ্টন করে। আমরা যেমন আকাশের তারকা উজ্জল দেখি আসমান বাসীরা তালিমের হালকাকে ঐ রকম উজ্জল দেখে। এলেম ও আমলের মধ্যে জোড় পয়দা হয়। অর্থাৎ জানা বিষয় আমল করা সহজ হয়। ঘরের তালিমের দ্ধারা ঘর থেকে বদ্বিনী বের হয়ে যায়। নেক সন্তান পয়দা হয়। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মহব্বত পয়দা হয়। ঐ ঘরের লোকদের আল্লাহ রাস্তায় বের হওয়া সহজ হয়।