দোয়া ও রোনাজারি | মাস্তুরাতের মুজাকারা
- হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতকে দাওয়াত আর দোয়া এই দুই জিনিস হাতিয়ার হিসেবে দিয়ে গিয়েছেন। উম্মত যতদিন এই দুই জিনিস হাতিয়ার হিসেবে ধরে রেখেছিলো ততদিন কোন শক্তিই উম্মতের কোন ক্ষতি করতে পারেনি।
- যাবতীয় মঙ্গল লাভের জন্য যেমন দুয়া করতে হবে তদ্রুপ অমঙ্গল থেকে বাঁচার জন্যও আমাদেরকে দুয়ার এহতেমাম করতে হবে। কারণ আল্লাহ তায়ালার কাছে চাইলে খুশী হন আর না চাইলে নারাজ হন। অপরদিকে মানুষের কাছে চাইলে নারাজ হয় আর না চাইলে খুশী হয়। আল্লাহ পাক বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি সাড়া দিব।
- হাত তুলে দোয়া করাই জরুরী না। কারণ দিলের চাহিদাকেই দুয়া বলে। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাত তুলে খুব কম সময়েই দুয়া করেছেন কিন্তু মাসনুন দুয়া সর্ব হালতেই পাঠ করেছেন।
- নবজাতক শিশু যেমন কান্নার দ্বারা তার যাবতীয় জরুরত মিটায় তেমনি আমাদেরও সমস্ত জরুরত কান্নার দ্বারা আল্লাহতায়ালার কাছ থেকে হাল করে নিতে হবে।
- কান্না ইনসানের জন্য বিরাট এক হাতিয়ার। আমরা আল্লাহর কাছে কান্না ছেড়ে দিয়েছি বলে আজ মাখলুকের কাছে কানতে বাধ্য হচ্ছি। নবজাতক বাচ্চা কোন ভাষা জানে না। একমাত্র কান্নার দ্ধারাই তার সমস্ত জরুরত পুরা করে নিচ্ছে। উলামায়ে কেরাম বলেন দুয়ার সময় যদি কান্না না আসে তবে কান্নার ভান করা।
- দুয়া এবাদতের মগজ। সৈনিকের হাতিয়ার যেমন বন্দুক, মোমিনের হাতিয়ার হলো দুয়া। যার জন্য দুয়ার দরজা সমুহ খুলে দেওয়া হয়েছে তার জন্য রহমতের ও কবুলিয়াতের দরজাও খোলা হয়েছে। অর্থাৎ যাকে দুয়ার তৌফিক দেয়া হয়েছে বুঝতে হবে তার দুয়া কবুল করা হবে।
- দুয়া যে কোন ভাষাতেই করা যায়, তবে আরবীতে হওয়া মোনাসেব। শেষ রাতের দুয়াই শ্রেষ্ঠ দুয়া। কারণ শেষ রাতে আল্লাহর রহমত বান্দার নিকটবর্তী হয়। সুখের সময় যারা দুয়া করে দুঃখের সময় তাদের দুয়া অধিক কবুল হয়ে থাকে।
- বান্দাকে আল্লাহর দিকে ডাকা হলো দাওয়াত আর আল্লাহকে বান্দার দিকে ডাকা হলো দুয়া।
- উলামায়ে কেরাম বলেন সাধারনত তিন ভাবে বান্দার দুয়া কবুল হয়ে থাকেঃ
- যা চাওয়া হয় তা পাওয়া যায়।
- যা চাওয়া হয় তা না দিয়ে মসিবত সরিয়ে দেন।
- আখেরাতের জন্য জমা রাখা হয়। যদি কখনও কোন দুয়া কবুল হতে দেরী হয় তবে অস্থির না হওয়া। কারণ অনেক সম দুয়া দেরীতে কবুল হয়। উলামায়ে কেরাম বলেন, ফেরাউন ধবংসের ৪০ বছর আগে মুসা (আঃ) এর দুয়া কবুল হয়েছিল।
- দোয়া কবুলের শর্তঃ
- কামাই হালাল হওয়া চাই।
- দাওয়াতের মেহনত করা চাই।
- দুয়ার শুরুতে ও শেষে দরূদ পড়া চাই।
- আল্লাহতায়ালার ছিফাতী নামগুলো বলা চাই।
- নাছোরবান্দা হয়ে দোয়া করা।
- একীনের সাথে দোয়া করা।
- প্রথমে নিজের ও পুরা উম্মতের হেদায়েতের জন্য।
- পরে আত্মীয় স্বজন ও উম্মতের দুনিয়া আখিরাতের মঙ্গলের জন্য।
- নতজানু হয়ে বসা।
- হাতের তালু মেলে রাখা।
- বুক পর্যন্ত হাত উচু রাখা।
- মধ্যম আওয়াজে করুন স্বরে দুয়া করা।
- দুয়া শেষে হাত মুখ মন্ডলে বুলিয়ে নেওয়া।
- দোয়া কবুলের বিশেষ মূহুর্তগুলোঃ
- জুমআর রাতে।
- জুমআর দিনে।
- রমজান মাসে দিনে ও রাতে।
- হজ্জের দিনে।
- শেষ রাতে।
- আজান ও একামতের মাঝে।
- নামজের পর।
- কোরআন পাক ক্ষতমের পর।
- মুসাফির অবস্থায়।
- অসুস্থ অবস্থায়।
- আল্লাহর রাস্তায় থাকা অবস্থায় বনী ইসরাইলের নবীদের মতো দুয়া কবুল হয়।
নাছোর বান্দা হয়ে দুয়া করা। এক বাচ্চা প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার সময় টাকা নেয়। মা একদিন বলে আজ দিব না। বাচ্চার অনেক চাওয়ার পরও মা দেননি। এবার বাচ্চা একটা বুদ্ধি বের করে বলে মা বল আজ দিব না কাল দিব। মা চিন্তা করে এতটুকু বললেই যদি আপদ দুর হয় সমস্যা কি? মা বলে আজ দিব না কাল দিব। এবার বাচ্চা বলে মা কাল যা দিবে তা আজই দিয়ে দাও। এবার মার দিল নরম হয়ে যায় এবং টাকা দিয়ে দেয়।