দাওয়াতের আদব | মাস্তুরাতের মুজাকারা
তরতীব অনুযায়ী যদি কোন কাজ করা হয় তা অল্প হলেও নতিজা বা ফলাফল খুব ভাল হয়। আর বেতরতীবে বেশী কাজ করা হলেও তার নতিজা ভাল হয় না বরং ক্ষতিই বয়ে আনে। দাওয়াতের মেহনত হলো নবীওয়ালা মেহনত। কাজেই এই কাম নবীওয়ালা সীফতেই হওয়া দরকার। নবীদের সীফত হলো নিজেকে দোষী মনে করা। দাওয়াতের এই মেহনত করতে গিয়ে আম্বীয়া (আঃ) গণকে কতনা কষ্ট মোজাহাদা করতে হয়েছে তারপরও প্রত্যেক আম্বীয়া (আঃ) গন নিজেদেরই কমজোরী প্রকাশ করেছেন। যেমন- তায়েফের ঘটনা।
বেতলব মানুষের কাছে বেগরজ (বিনাস্বার্থে) হয়ে গিয়ে আল্লাহ ও রাসুলের প্রতি তলব সৃষ্টি করার নামই দাওয়াত। অর্থাৎ এই কামের জন্য প্রথমে নিয়তকে সহি করা। দিলের মধ্যে এই নিয়ত থাকবে যে আমি আল্লাহ তায়ালাকে রাজি করার জন্য দাওয়াত দিচ্ছি। আমার নিজের হেদায়েতের জন্য দাওয়াত দিচ্ছি। আল্লাহ তায়ালার হুকুম জেনে দাওয়াত দিচ্ছি।
- আল্লাহ তায়ালা কোরানে বলেন, হে কম্বল আবৃত নবী আপনি উঠুন, মানুষের ময়দানে আপনার রবের বড়ত্বের কথা বলুন।
- উলামায়ে কেরাম বলেন, মাখলুক থেকে খালেকের দিকে, দুনিয়া থেকে আখেরাতের দিকে, বিদয়াত থেকে সুন্নতের দিকে এবং মাল থেকে আমলের দিকে দাওয়াত দেওয়া।
- দাওয়াত দেওয়ার সময় সর্বদা আল্লাহ তায়ালাকে স্মরণে রাখতে হবে। মুসা (আঃ) এবং হারুন (আঃ) কে ফেরাউনের নিকট দাওয়াত দিতে পাঠিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন, আমার জিকিরের মধ্যে কোন কমি করো না।
- উম্মত সম্পর্কে নবীদের দীল ছিলো সাফ। নবীরা কোন বিনিময় নেননি। নবীরা কখনো প্রতিশোধ নেননি। নবীরা সবসময় নিজেদেরকে দোষী মনে করতেন। যেমন তায়েফের ঘটনা।
- দাওয়াতের জন্য প্রথমে নিয়তকে সহীহ করা। আল্লাহকে রাজি করার নিয়তে দাওয়াত দেওয়া। অন্যের হেদায়েতের জন্য না বরং নিজের হেদায়েতের জন্য দাওয়াত দেওয়া।
- দাওয়াতের কামের মধ্যে আল্লাহতায়ালার সাহায্য পাওয়ার জন্য এবং শয়তানের আক্রমন থেকে বাচার জন্য বেশি বেশি জিকির করা চাই।
- দাওয়াতের সময় কর্কশ ভাষা ব্যবহার না করা। এটা অহংকারের লক্ষণ। তাই খুব নরম ভাবে একরামের সাথে দাওয়াত দেওয়া। যাকে দাওয়াত দিবে তাকে ছোট মনে না করা বরং কালেমার খাতিরে নিজের চেয়ে বড় মনে করা। খুব নরমভাবে হাসিমুখে দাওয়াত দেয়া যেন ঐ ভাই/বোন আমার কথার দ্বারা দীলে কোন প্রকার চোট বা ব্যাথা না পায়। কারন নরমভাবে দাওয়াত দেয়ার জন্য স্বনং আল্লাহতায়ালাই হুকুম করেছেন।
- মুসা এবং হারুন (আঃ) কে ফেরাউনের কাছে নরম ভাষায় কথা বলার জন্য উপদেশ দিয়েছেন। হুজুর (সঃ) বলেন নরম মেজাজের দ্ধারা যতটুকু মাকসাদ পুরা হয় শক্ত মেজাজের দ্বারা ততটুকু মাকসাদ পুরা হয় না।
- দাওয়াত দেওয়ার সময় যদি কেউ খারাপ ব্যবহার করে তার জন্য ছবর করা এবং নবীদের সুন্নত জিন্দা হচ্ছে বলে মনে করা।
- দাওয়াত দেওয়ার সময় ভয় না করা। কারণ আমি দুর্বল হতে পারি কিন্তু যার দিকে দাওয়াত দিচ্ছি সেতো দুর্বল না। মুসা (আঃ) এবং হরুন (আঃ) কে ফেরাউনের কাছে পাঠিয়ে বলেছেন তোমরা ভয় করো না আমি তোমাদের সাথে আছি। উলাময়ে কেরাম বলেন কেয়ামত পর্যন্ত যারা দাওয়াতের কাম করবে আল্লাহ তায়ালা তাদের সাথেই থাকবেন।
- চার সিফাতের সাথে দাওয়াত দেওয়াঃ
- পূর্ণ একীনের সাথে দাওয়াত দেওয়া।
- উত্তম আখলাকের সাথে দাওয়াত দেওয়া।
- এখলাছের সাথে দাওয়াত দেওয়া।
- নিজেকে মুখাপেক্ষী মনে করে দাওয়াত দেওয়া।
- দাওয়াত দিতে গিয়ে অন্যের ইজ্জত রক্ষার ব্যাপারে সতর্ক থাকা চাই। তা না হলে সওয়াবের পরিবর্তে গোনাহের আশংকাই বেশী।
- ৬ নম্বরকে সহজ করে বুঝনো। ভুল কথা না বলা। ভুল বেশী বলার চেয়ে সহিহ অল্প বলা ভালো। বিশুদ্ধ ভাষায় কথা বলা সুন্নত।