দাওয়াতের লাভ - মাস্তুরাতের মুজাকারা
দাওয়াতের মেহনতকে যারা জীবনের উদ্দেশ্য বানিয়ে করবে আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে যে পুরষ্কার দিবেন তা দেখে কোন মানুষ বরদাস্ত করতে পারবে না। তাই মানুষের আকলে ধরে এ পরিমান কিছু ফাযায়েলের কথা কিতাবের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকৃত ফাযায়েলের কথা উলামায়ে কেরাম যা বলেন তাহলো বেগাইর হিসাব (অগণিত) যা ফেরেশতারাও হিসাব করতে পারে না।
আল্লাহ তায়ালা কোরানে বলেন, তার চেয়ে ভাল কথা আর কার হতে পারে যে, মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকে এবং নিজে নেক আমল করে এবং বলে যে নিশ্চয়ই আমি মুসলমানদের মধ্যে একজন।
যারা দাওয়াতের কাম করবে আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে পবিত্র জিন্দেগী দান করবেন। পবিত্র জিন্দেগীর আলামত হলোঃ
- দিল পেরেশানী মুক্ত হওয়া।
- সবার দিলে মহব্বত পয়দা হওয়া।
- বরকতময় জিন্দেগী লাভ।
- ইজ্জতওয়ালা জিন্দেগী নসীব হওয়া।
- দুয়াওয়ালা জিন্দেগী লাভ।
যে আযান দেয় কেউ নামাজ না পড়লেও তাকে পড়তে হয়। অর্থাৎ যে দাওয়াত দেয় তার কথা কেউ না মানলেও আল্লাহ তায়ালা তাকে মানার তৌফিক দেন।
মেহেদী যে বাটে তার হাতে আগে লাল হয়ে যায়। যে কাপড় সাফ করতে চায় তার হাত এমনিতেই সাফ হয়ে যায়।
রোগী ভাল না হলেও ডাক্তারকে ভিজিট ফেরত দিতে হয় না। তদ্রুপ যে দাওয়াত দেয় তার কথা না মানলেও প্রতি কথার বিনিময়ে একেক বছর এবাদতের নেকি দেওয়া হয়।
সৎকাজ দেখানেওয়ালা করনেওয়ালার বরাবর নেকি পায়।
দাওয়াতের মেহনতের মুল উদ্দেশ্য হলো মহল তৈয়ার করা। অর্থাৎ যখন দ্বিনী মহল তৈয়ার হবে তখন মানুষ আপনা থেকেই দ্বিনের উপর চলা শুরু করবে। যেমন: ঋতু পরিবর্তন। শীতের সময় মোটা কাপড় পড়তে কাউকে বলতে হয় না। গরমের সময় পাতলা কাপড় পড়তে কাউকে বলতে হয় না।
দাওয়াতের মেহনতের দ্ধারা যখন দ্বিনী পরিবেশ কায়েম হবে তখন বেইমান ঈমান ওয়ালা হবে, বেদাতি সুন্নতী হবে, জুলুম ইনসাফে পরিনত হবে, বেহায়া হায়া করনেওয়ালা হবে, খেয়ানত কারী আমানতদার হবে, জাহেল এলেমের সাথে চলবে, বেদ্ধিনী দ্বিনদারীতে পরিনত হবে, সর্বোপরি সকল প্রকার নাফরমানী ফরমাবরদারীতে পরিনত হবে।
মাওঃ আঃ কাদের (রঃ) বলেন (যিনি মদীনার জিম্মাদার ছিলেন), এখলাসের সাথে দাওয়াতের মেহনত করলে ৪ টি বড় বড় লাভ হাসিল হয়।
আল্লাহ পাকের সমস্ত আহকামাত মাহবুব মনে হবে। অর্থাৎ সব আমল করতে মজা লাগবে। আল্লাহর রাস্তায় জানমাল খরচ করতে মজা লাগবে।
- আপোষে মহব্বত পয়দা হবে। বেলাল হাবসী, সালমান ফারসী রাযিঃ অর্থাৎ সাহাবীদের মত মহব্বত পয়দা হবে।
- আল্লাহ তায়ালা মানুষকে অপমানের গর্ত থেকে বের করে ইজ্জতের উচ্চ শিখরে পৌঁছাবেন। যেমন- বেলাল (রাঃ)-কে ইজ্জত দিয়েছেন।
- গায়েবী মদদ পক্ষে আসবে।
এছাড়া আরও কিছু দাওয়াতের লাভ:
- পবিত্র জিন্দেগী দান করবেন।
- শান্তিময়, বরকতময়, নিরাপত্তাময় জিন্দেগী দান করবেন।
- দোয়া কবুল হবে।
- সর্বস্থানে ইজ্জত দান করবেন।
- জরুরত গায়েব থেকে পুরা হবে।
- গুনাহ মাফ করবেন।
- বিনা হিসাবে জান্নাতে পৌছাবেন।
- বখীলি দূর করবেন।
- দীলের একীন ছহীহ হবে।
- শয়তান দূর হয়।
- ঈমান বাড়ে।
- দুনিয়ার মহব্বত দূর হয়।
- সমস্ত নেক আমল জিন্দা হবে।
- যে জিনিস আমার তাকদ্বীরে নাই সেই জিনিসের পিছনে সময় ব্যয় করা থেকে হেফাজত করবেন।
সর্বোপরি দাওয়াতের কাম করনেওয়ালাদের আল্লাহ তায়ালা গুনাহ মাফ করে দিবেন এবং বিনা হিসাবে জান্নাতে পৌঁছাবেন।