ছবর বা ধৈর্য্য - মাস্তুরাতের মুজাকারা

  • দুনিয়ার অল্প সময়ের জিন্দেগীতে এমন কিছু হালত বা অবস্থার সৃষ্টি হয় যা প্রত্যাশিত নয়। আর এই হালত আল্লাহ তায়ালাই সৃষ্টি করেন মোমিনের মাকামকে বাড়ানোর জন্য। যখন সবর বা ধৈর্য্যের মাধ্যমে আমরা এই অবস্থার মোকাবেলা করতে পারবো তখন আল্লাহ তায়ালা আমাদের মাকামকে বাড়িয়ে দিবেন। কিতাবে আছে যারা সুখে দুঃখে সর্বাবস্থায় আল্লাহ তায়ালার উপর রাজি থাকবে তারা বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

  • যদি মনের বিরুদ্বে এরুপ অবস্থা শরিয়তের কোন হুকুমের কারণে হয় তবে অটল ভাবে সেই হুকুমের উপর কায়েম থাকতে হবে। আর যদি ঐ অবস্থা কোন দুনিয়াবী কারণে হয় তবুও ঐ বিপদে মনকে অস্থির না করে কারো শেকায়েত না করে নীরবে ধৈর্য্য ধারন করে থাকতে হবে। কেউ জানে না খবর তার নাম সবর।
  • অনেক সময় ক্ষুধার জালা, অভাবের তাড়না, রোগের যন্ত্রনা, শোকের বেদনা, শত্রুর উৎপাত বা সম্পদের ঘাটতি মানুষের উপর এসে পড়ে। এ সময় দিলকে আল্লাহ তায়ালার দিকে রুজু করা এবং বিশেষ ভাবে সবর করা। মসিবতকালীন দুয়া পড়া। মসিবতের মধ্যে যেসব হেকমত ও সওয়াব রয়েছে তা স্মরণ করা, আল্লাহ তায়ালার কাছে পানাহ চাওয়া এবং দুয়া করতে থাকা। হামেশা এরুপ করলে শয়তান দুর হবে। সব চিন্তা দুর হয়ে শান্তি ফিরে আসবে।

  • মুফাছিছর গণ বলেন সুস্থ হওয়ার পর আল্লাহ তায়ালা আইয়ুব আঃ- কে যখন আবার রাজার মসনদে বসালেন তখন এক বয়োজেষ্ঠ্য প্রজা প্রশ্ন করেন হে আইয়ুব আপনার কষ্ট ও যন্ত্রনার কথা কি স্মরণ হয়? হ্যাঁ সে সময়গুলো এখনের চেয়েও ভাল ছিল। কারণ অসুস্থতার সময় আল্লাহ তায়ালা প্রতিদিন সকালে আমাকে ডেকে বলতেন আইয়ুব তুমি কেমন আছ? ঐ ডাকের আবেগে আমার সারা দিন কেমনে কেটে যেত আমি বুঝতাম না। আবার সন্ধ্যায় বলতেন হে আইয়ুব তুমি কেমন আছ? ঐ ডাকে আমার আত্মা এতই প্রশান্তি পেত যে আমার সারা রাত কেমনে কেটে যেত আমি বুঝতাম না। যেদিন থেকে সুস্থ হয়েছি ঐ ডাক আর আসে না।

  • এক বুড়া পকেটে চশমা রেখে সারা ঘর খুঁজে বেড়াচ্ছে। ছোট নাতি বলে দাদু তোমার পকেটেইতো চশমা। এতটুকু কষ্টের বদলাও আল্লাহ তায়ালা জান্নাতে দিবেন। তবে মসিবতে না পড়ে ছবরের তৌফিক চাওয়া নিষেধ। খোদা না করুন যদি মসিবত এসেই পড়ে তবে ছবর করা। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ (রাঃ) বলেন-ছবর হলো ঈমানের অর্ধেক।

  • মা আয়েশা (রাঃ) বলেন, বান্দার উপর দুনিয়ার কষ্ট হলো জ্বর সমতুল্য (মাহফুম)। আল্লাহ তায়ালা মোমিনের কোন কষ্টকে নষ্ট করবেন না। পায়ে কাঁটা ফুটলে যদি সবর করে আল্লাহ তায়ালা তারও বদলা দিবেন।
  • ধৈর্য্য
    ধৈর্য্য
  • মসিবত হলো মোমিনের মর্যদা বৃদ্ধির সিঁড়ি। তাই অনেকে মসিবত আসাকে আল্লাহ তায়ালার রেজামন্দির আলামত মনে করেন।
  • কোরানে আছে "নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা সবরকারীদের সাথে আছেন"। আল্লাহ তায়ালা যার সাথে থাকেন তার মছিবত তখন আরামে পরিনত হয়ে যায়।
  • কেউ জানে না খবর তার নাম ছবর

উলামায়ে কেরাম বলেন, সবরের চারটি স্তরঃ-

  1. ইবাদতের প্রতি অটল থাকা। আল্লাহর বিধান এবং নির্দেশ সুন্দরভাবে আদায় করা নফস যতই কষ্টকর মনে করুক না কেন।
  2. গুনাহ থেকে বেচে থাকা। গুনাহ যা আল্লাহ তায়ালা নিষেধ করেছেন তা যতই মন ভুলানো হোক না কেন নফসের বিরোধিতার কষ্ট সহ্য করা।
  3. বিপদে ধৈর্য্য ধারণ করা।
  4. কোন মুসীবতে পতিত হওয়ার শুরুতেই সবর করা।

সার কথা হলো স্বভাব বিরুদ্ধ ব্যাপারে অস্থির না হওয়া। কথায় ও কাজে অকৃতজ্ঞার প্রকাশ থেকে বেঁচে থাকা এবং ইহকালেও আল্লাহ তায়ালার রহমতের আশা করা এবং পরকালেও উত্তম পুরস্কার প্রাপ্তিতে বিশ্বাস রাখা।

Next Post Previous Post