মসজিদের ফজিলত সম্পর্কিত অসাধারণ কিছু হাদিস!

  • হযরত আনাস (রাঃ) হুজুর (সাঃ) হইতে আল্লাহ তায়ালার এই এরশাদ নকল করেন যে, যদি আমি কোন স্থানে আজাব পাঠাইতে ইচ্ছা করি কিন্তু সেইখানে যখন ঐ সমস্ত লোকদের দেখি যাহারা মসজিদকে আবাদ করে, আল্লাহর ওয়াস্তে পরস্পরের মধ্যে মহব্বত রাখে এবং শেষ রাত্রে এস্তেগফার করে তখন সেই আজাব মূলবতী করিয়া দেই। (দুররে মনসুর)
  • হযরত আবু দারদা (রাঃ) হযরত সালমান (রাঃ) কে পত্র লিখেন যে, মসজিদে অধিকাংশ সময় কাটাইও। আমি হুজুর আকরাম (সাঃ) এর নিকট শুনিয়াছি যে, মসজিদ মোত্তাকিদের ঘর এবং আল্লাহ তায়ালা এই বলিয়া ওয়াদা করিতেছেন, যে ব্যক্তি অধিকাংশ সময় মসজিদে কাটায় আমি তাহার উপর রহমত বর্ষন করিব, তাহাকে শান্তিদান করিব, কেয়ামতের দিন পুলছেরাতের রাস্তা সহজ করিয়া দিব এবং আমি তাহার উপর রাজী থাকিব।
  • হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) হুজুর (সাঃ) হইতে বর্ণনা করেন যে, মসজিদ সমূহ আল্লাহ তায়ালার ঘর এবং ঘরে আগমনকারীকে অবশ্যই সম্মান করা হয়। কাজেই মসজিদে আগমনকারীদেরও সম্মান প্রদর্শন করা আল্লাহ তায়ালার উপর জরুরী হইয়া যায়। (দুররে মনসুর)
  • হযরত আবু সায়ীদ খুদরি (রাঃ) হুজুর (সাঃ) হইতে বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি মসজিদের সহিত মহব্বত রাখে আল্লাহ তায়ালাও তাহার সহিত মহব্বত রাখেন।
  • এক হাদিসে আসিয়াছে, যে ব্যক্তি ঘর হইতে অযু করিয়া নামাজের জন্য রওয়ানা হয়, সে যেন ঘর হইতে এহরাম বাধিয়া হজ্বের জন্য রওয়ানা হইল। তাছাড়াও মানুষ যখন অযু করে এবং অযুকে পরিপূর্ণতার স্তরে পৌঁছায় অতঃপর কেবল মাত্র নামাজের উদ্দেশ্যেই মসজিদের দিকে রওয়ানা হয় এবং ইহার সহিত অন্য কোন উদ্দেশ্য না থাকে তবে তাহার প্রত্যেক কদমে একটি করিয়া নেকি বৃদ্ধি পাইতে থাকে এবং একটি করিয়া গুনাহ মাফ হইয়া যায়। নামাজী যখন নামাজ আদায় করিয়া ঐ জায়গায় বসিয়া থাকে এবং যতক্ষণ অযুর সহিত বসিয়া থাকে ততক্ষণ ফেরেশতাগণ তার জন্য মাগফেরাত ও রহমতের দোয়া করিতে থাকেন এবং মানুষ যতক্ষণ নামাজের জন্য অপেক্ষা করিতে থাকে ততক্ষণ সে নামাজেরই নেকি পাইতে থাকে।
  • হযরত সাহল (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে, হুজুর আকদাস (সাঃ) ইরশাদ ফরমাইয়াছেন, যে সমস্ত লোকেরা অন্ধকারের ভিতর মসজিদে বেশী বেশী যাইতে থাকে তাহাদিগকে কিয়ামতের দিন পুরোপুরি নূরের সুসংবাদ প্রদান করো। (ইবনে মাযা, মিশকাত, তিরমিজি, আবু দাউদ)
    মসজিদের ফজিলত সম্পর্কিত অসাধারণ কিছু হাদিস!
    মসজিদের ফজিলত সম্পর্কিত অসাধারণ কিছু হাদিস!

    ফায়দা: আজ দুনিয়াতে অন্ধকার রাত্রিতে মসজিদে যাওয়ার মূল্য ঐ দিন বুঝা সম্ভব হইবে যেইদিন মানুষ কিয়ামতের ভয়াবহ দৃশ্যের সম্মুখীন হইবে এবং প্রত্যেকেই যেদিন মুছিবতের মধ্যে গ্রেফতার হইয়া যাইবে। অদ্যকার এই অন্ধকারের কষ্টের প্রতিদান ও তাহার মূল্য ঐ দিন পাওয়া যাইবে যেইদিন সূর্যের চেয়ে অধিকতর উজ্জ্বল নূর তাহার সাথে সাথে চমকাইতে থাকিবে।
  • একটি হাদিসে আসিয়াছে, দুনিয়াতে যাহারা অন্ধকারে মসজিদে যাতায়াত করে কিয়ামতের দিন ঐ সব ব্যক্তি নূরের মিম্বরে নিশ্চিন্তে অবস্থান করিবে অথচ অন্যান্যরা ভয় ও আতংকে ঘাবড়াইয়া যাইবে।
  • আর এক হাদিসে বর্ণিত আছে, কিয়ামতের দিন হক আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ ফরমাইবেন আমার প্রতিবেশীরা কোথায়? ফেরেশতাগন আরজ করিবেন, আপনার প্রতিবেশী কাহারা? ইরশাদ হইবে, মসজিদ আবাদকারীগণ।
  • এক হাদিসে আসিয়াছে, আল্লাহ তায়ালার নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় স্থান হইল মসজিদ এবং সবচেয়ে অপছন্দনীয় স্থান হইল বাজার।
  • একটি হাদীসে আছে, মসজিদ সমূহ জান্নাতের বাগিচা। (জামে ছগীর)
  • একটি ছহি হাদীসে উল্লেখ আছে, হযরত আবু সাঈদ (রাঃ) হুজুর (সাঃ) হইতে বর্ণনা করেন যাহাকে মসজিদে যাইতে অভ্যস্থ দেখো তাহার ঈমানদারী সম্পর্কে সাক্ষ্য দিতে পারো। (জামে ছগীর) তারপর এই আয়াত শরীফ তেলওয়াত করেন যার অর্থ- মসজিদ সমূহকে ঐসব লোক আবাদ রাখে যাহারা আল্লাহ তায়ালা ও কিয়ামতের উপর ঈমান রাখে।
  • এক হাদীসে বর্ণিত আছে, কষ্টের সময় অযু করা ও মসজিদের দিকে কদম বাড়ানো এবং এক নামাজের পর অন্য নামাজের অপেক্ষায় বসিয়া থাকা গুনাহ সমূহকে ধৌত করিয়া দেয়। (জামে ছগীর)
  • একটি হাদীসে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি মসজিদ হইতে যতদূরে অবস্থান করিবে সে ততই অধিক সওয়াব পাইবে। (জামে ছগীর) ইহার কারণ এই যে, প্রতি পদক্ষেপেই পূণ্য ও পুরস্কার প্রাপ্ত হয়। মসজিদ হইতে যতদূরে থাকিবে পদক্ষেপও তত বেশি হইবে। এই জন্য কিছু সংখ্যক সাহাবী (রাঃ) ছোট ছোট পদক্ষেপ রাখিতেন।
  • এক হাদীসে আসিয়াছে, তিনটি আমলের সওয়াব যদি মানুষের জানা থাকিত তবে লড়াই করিয়া হইলেও মানুষ উহা হাসিল করিতে অগ্রসর হইত। তাহা হইল:
    1. আযান দেওয়া
    2. দ্বিপ্রহরের সময় জামাতে নামায পড়িবার জন্য গমন করা
    3. জামাতের প্রথম কাতারে নামায পড়া। (জামে ছগীর)
  • এক হাদীসে বর্ণিত আছে, কিয়ামতের দিন প্রত্যেক মানুষই যখন পেরেশান অবস্থায় থাকিবে এবং সূর্য্যের তাপ অত্যন্ত প্রখর হইবে তখন সাত ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার রহমতের ছায়াতলে স্থান পাইবে: তন্মধ্যে একজন ঐ ব্যক্তি হইবে যাহার অন্তর মসজিদে লটকানো থাকে অর্থাৎ কোন প্রয়োজনে বাহিরে আসিলেও পুনরায় মসজিদে ফেরত যাইবার জন্য যাহার মন অধীর হইয়া উঠে।
  • হাদীসে বর্ণিত আছে, যাহারা বেশির ভাগ সময় মসজিদে জমা থাকে তাহারা মসজিদের খুটি স্বরূপ, ফেরেস্তাগণ তাহাদের সাথী হয়ে যায়, তাহারা অসুস্থ হইলে ফেরেস্তাগণ তাহাদের সেবায় নিযুক্ত হন, আর যদি কোন কাজে গমন করে তবে ফেরেস্তাগণ তাহাদিগকে সাহায্য করিয়া থাকেন। (হাকীম)
Next Post Previous Post