কাকরাইলের চিঠি অক্টোবর ২০২৫

তারিখঃ ২২/১০/২০২৫ ইং

বিসমিহি তা'য়ালা

মোহতারামীন ও মোকাররামীন আহলে শুরা হাযরাতগণ/ মেহনতের জামাতের সাথীগণ ও কামকরনেওয়ালা জিম্মাদার সাথীগণ, সকল জেলা।

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ, উম্মিদ হয় খোদায়ে পাকের ফজল ও করমে খায়ের ও আফিয়াতের সঙ্গে থেকে দ্বীনের মোবারক মেহনতে মশগুল আছেন ও আনেওয়ালা পুরানোদের ৫ দিনের জোড়কে (২৮ শে নভেম্বর থেকে ২ রা ডিসেম্বর, ২০২৫) কামিয়ার করার জন্য সকল সাথীদের নিয়ে জনতোর মেহনত করছেন।

আপনারা অবগত আছেন যে দীর্ঘ দিন ধরে আমাদের দেশে ফসল কাটা-মারার পর তথা ভাদ্র মাসে কতিপয় জেলা থেকে খুরুজ অর্থাৎ আল্লাহ্ পাকের রাস্তায় বের হওয়ার রেওয়াজ আছে। গত রমজানে দেশের সার্বিক খুরুজ আশানুরূপ না হওয়ার কারণে কাকরাইলের সাথীরা ফিকিরমান্দ হন ও কাকরাইলের মাশওয়ারাতে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার পর পরবর্তী ত্রি মাসিক মাশওয়ারায় (২৭ ও ২৮শে জুন,২০২৫) বড়রা উক্ত তাকাজাকে গুরুত্ব সহকারে মজমায় পেশ করেন ও মেহনতের তরতীব বাতান।

এরই ধারাবাহিকতায় জেলার জিম্মাদার সাথীরা থানা, ইউনিয়ন ও শহরের হালকার সাথীদের নিয়ে আজাইম তৈরী করে, কসরতের সাথে থানা-ইউনিয়ন পর্যায়ে সফর করে আজাইমকৃত এক এক সাথীর কাছে বারবার যাওয়া, তার মাসায়েলকে হাল করে জামাতসহ আল্লাহর রাস্তায় বের করার প্রচেষ্টা করা ইত্যাদি।

কাকরাইলের চিঠি অক্টোবর ২০২৫
কাকরাইলের চিঠি অক্টোবর ২০২৫

আল্লাহ পাকের দরবারে লাখো শুকরিয়া তিনি আমাদের এই টুটা ফাটা মেহনত ও রোনাজারির উসিলায় গত ভাদ্র মাস থেকে (১ লা আগস্ট থেকে ১১ ই অক্টোবর পর্যন্ত) প্রায় ৩৫০০ জামাত আল্লাহ পাকের রাস্তায় বের হয়েছে যা অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি এবং সারা বছরের খুরুজের মধ্যে যে কমি পরিলক্ষিত হয়েছিল তা আল্লাহ্ পাক তার মেহেরবানী দ্বারা পুরা করে দিয়েছেন।

তন্মধ্যে ময়মনসিংহ থেকে ১২৫৩ টি, নেত্রকোণা থেকে ২৬০ টি, কিশোরগঞ্জ থেকে ১৯৩ টি, ফরিদপুর থেকে ১৮৫ টি, দিনাজপুর থেকে ১৪০ টি, ঠাকুরগাঁও থেকে ৯৬ টি, মাদারীপুর থেকে ৭৫ টি ও পঞ্চগড় থেকে ৬২ টি জামাত বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে আমরা যে অক্লান্ত পরিশ্রম করে সাথীদেরকে আল্লাহপাকের রাস্তায় বের করেছি এনারা চিল্লা শেষ করে অনেকেই বাড়ি ফিরেছেন বা দু-একদিনের মধ্যে বাড়ি ফিরবেন। ঠিক অনুরূপভাবে মেহনত করে তাদেরকে মোকামি কাজে জুড়ে রাখার চেষ্টা করা।

শেষ হযরতজী মাওলানা এনামুল হাসান সাব (রাহ.) ফরমান- আল্লাহ পাকের রাস্তায় বের হয়ে মানুষ মেহনতের দ্বারা যে ঈমানের যে সারমায়া(পুজি) হাসিল করেন তার তরক্কি মোকামি কাজের মধ্যে। তাই এটা বহুতি জরুরী যে ওয়াপাস আনেওয়ালা এক এক জন সাথীর সাথে দেখা করে রোজানা মসজিদের তিন কাম অর্থাৎ মাশওয়ারা, আড়াই ঘন্টার মেহনতকে সামনে নিয়ে ঘর-ঘর মোলাকাত, মসজিদে ও ঘরে তালিমের এহতেমাম করা।

নতুন সাথীদের নিয়ে সপ্তাহ নির্ধারণ করে তিন দিন লাগানো ও পরিশেষে সালানা চিল্লা / ৩ চিল্লা জামাত সহকারে বের হওয়ার তারিখ ঠিক করা। ইন শা আল্লাহ্ এর দ্বারা জেলার কামও বাড়বে ও সাথীদের মধ্যেও তরক্কি হবে।

আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে এখলাসের সাথে নবীওয়ালা মেহনতে জুড়ে থাকার তৌফিক দান করুন। সকল সাথীদের কাছে সালাম ও দোয়ার দরখাস্ত।

আরজ গুজার
হযরত মাওলানা মোহাম্মদ ফারুক
আহলে শুরা
তাবলীগ জামাত বাংলাদেশ
কাকরাইল, রমনা, ঢাকা।

Next Post Previous Post