আলমী ফিকির বানাবার ও বাড়াবার মুজাকারা | মাস্তুরাতের মুজাকারা
হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলমী নবী অর্থাৎ কিয়ামত পর্যন্ত সারা দুনিয়ার সমস্ত মানুষের নবী। কিন্তু অন্যান্য নবীরা ছিলেন বিশেষ কোন এলাকার জন্য এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। যেমন মুসা আঃ ছিলেন মিশর দেশের জন্য, শোয়াইব আঃ ছিলেন মাদাইন শহরের জন্য, ইসমাঈল আঃ ছিলেন তার পরিবারের জন্য এবং নূহ আঃ ছিলেন তার ক্বওমের জন্য নবী। আর হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন সমস্ত মানব জাতির জন্য কিয়ামত পর্যন্ত নবী। এইজন্য তাকে আলমী নবী বা বিশ্ব নবী বলা হয়।
আমরা জানি আমদের নবী আলমী নবী এবং আখেরী নবী অর্থাৎ তার পরে আর কোন নবী আসবেন না। তাই আখেরী নবীর উম্মত হিসেবে দাওয়াতের মেহনতের জিম্মাদারী আমাদের সবার উপর। আলমী নবীর উম্মত হিসেবে আমাকেও পুরা আলমের সমস্ত মানুষ কিভাবে জাহান্নাম থেকে বেচে জান্নাতে যেতে পারে সেই ফিকির করতে হবে।
হুদহুদ পাখি ফিকির করেছে বলে রাণী বিলকিসের পুরা ক্বওম হেদায়েত পেয়েছে এ ঘটনা কোরআনে উল্লেখ আছে।
সুলাইমান আঃ এর জামানায় পিপড়া তার ক্বওমকে বাচানোর ফিকির করেছে তাও কোরআনে আছে।
আমরা ড্রাইভার উম্মত / ট্রাফিক উম্মত, আমাদের একটু অসতর্কতার জন্য হাজারো মানুষের জাহান্নামের ফয়সালা হতে পারে।
মেহেদী যে বাটে তার হাত আগে লাল হয়। যে কাপড় পরিষ্কার করে তার হাতও পরিষ্কার হয়। যে অন্যের হেদায়েতের ফিকির করে সে আগে হেদায়েত পায়।
হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক লোকের কাছে সত্তরবার যাওয়ার পর সে ইসলাম গ্রহণ করে।
যে উম্মতের হেদায়েতের জন্য দোয়া করলো সে যেন হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে একরাম করলো।
যে ব্যাক্তি এই দোয়া করে যে, হে আল্লাহ! পুরা উম্মতকে হেদায়েত দান করেন। তবে তার আগে যত উম্মত এসেছে, এখন যত উম্মত আছে, পরে যত উম্মত আসবে সবার পক্ষ থেকে একটা করে নেকী তার আমলনামায় লিখে দেওয়া হবে।
হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সারা দুনিয়া সফর করেননি। উনার সবচেয়ে বড় সফর ছিলো তাবুক সফর। কিন্তু হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ফিকির ছিলো সারা দুনিয়া নিয়ে।
আজ দুনিয়াতে প্রতিদিন ছয় লক্ষ মানুষ মারা যাচ্ছে। এর মধ্যে সাড়ে চার লাখ মানুষ প্রতিদিন কালেমা ছাড়া মারা যাচ্ছে।