আলমী ফিকির বানাবার ও বাড়াবার মুজাকারা | মাস্তুরাতের মুজাকারা
হুজুর (সঃ) ছিলেন আলমী নবী বা বিশ্ব নবী। কিন্তু অন্যান্য নবীরা ছিলেন বিশেষ কোন এলাকার জন্য এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। যেমন- মুসা (আঃ) ছিলেন মিশর দেশের জন্য, শোয়াইব (আঃ) ছিলেন মাদাইন শহরের জন্য, ইসমাঈল (আঃ) ছিলেন তার পরিবারের জন্য এবং নুহ (আঃ) ছিলেন তার কওমের জন্য নবী। আর হুজুর (সঃ) ছিলেন কিয়ামত পর্যন্ত সমস্ত জিন ইনসানের নবী। এ জন্য তাকে আলমী নবী বা বিশ্বনবী বলা হয়।
আমরা জানি আমাদের নবী আলমী নবী এবং আখেরী নবী অর্থাৎ তার পরে আর কোন নবী নাই। তাই আখেরী নবীর উম্মত হিসাবে দাওয়াতের মেহনতের জিম্মাদারী আমাদের সবার উপর। সারা দুনিয়ার সমস্ত মানুষ কি ভাবে জাহান্নাম থেকে বাঁচবে এ জন্য আমাকেও ফিকির করতে হবে। একজন মানুষও যদি ইসলাম থেকে দূরে থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের জিম্মাদারী আদায় হবে না।
উম্মতের দরদে নবীজির দিলে ঐ রকম আওয়াজ হতো যেমন তরকারী চুলার উপর থাকলে হয়। দুঃখের বিষয় আজ আমাদের ইসলামের দরদ আছে কিন্তু উম্মতের দরদ নাই। আমরা আমাদের সন্তানদের ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার বানাতে চাই কিন্তু মুসলমান বানাতে চাইনা।
দুনিয়া থেকে বিদায়ের পূর্ব মুহুর্তে জিব্রাঈল (আঃ)- কে নবীজি বলেন, ভাই জিব্রাঈল আমার পরে আমার উম্মতের কি হবে? আল্লাহ তায়ালা জানিয়ে দিলেন আপনার উম্মতের ব্যাপারে আপনাকে খুশী করা হবে। এখানে লক্ষনীয় বিষয় হলো, বিদায়ের সময় ফাতিমা বা হাসান-হোসাইনের কি হবে তা কিন্তু বলেন নি।
হাশরের ময়দান যখন কায়েম হবে সর্ব প্রথম নবীজিকে উঠানো হবে। পাশে জিব্রাঈল (আঃ) থাকবেন। নবীজি উঠেই জিব্রাঈল! জিব্রাঈল বলে চিৎকার করে বলবেন আমার উম্মতের কি অবস্থা। জিব্রাঈল (আঃ) বলবেন আপনাকেই তো প্রথম উঠানো হয়েছে আপনার উম্মতকে তো এখনও উঠানো হয় নি।
আলেমদের মূখ থেকে শুনেছি যার সারাংশ একবার হুজুর (সঃ) এক লোককে অনেকক্ষণ বুঝানোর পর বলেন এবার মুসলমান হয়ে যাও। সে বলে না আমি মুসলমান হবো না। এভাবে ৩ বার বুঝান। বারবারই সে অস্বীকার করে। ওমর (রাঃ) পাশে ছিলেন। তিনি বলেন ওকে আমার হাতে ছেড়ে দেন ওর গর্দানটা উড়ায়ে দেই। নবীজি ৪র্থ বার যখন বুঝান তখন সে মুসলমান হয়ে যায়। ওমর (রাঃ) বলেন হায়! আমি যদি গর্দানটা উড়ায়ে দিতাম তাহলে কাফের হয়ে মারা যেত আর এখন সে সাহাবী হয়ে গেছে।
মাওঃ ইলিয়াস (রঃ) এর উম্মতের জন্য দরদ ব্যাথা আর ফিকিরকে কোন সাহিত্যিক লিখে শেষ করতে পারবে না।
যে উম্মতের হেদায়েতের জন্য দোয়া করলো সে যেন হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে একরাম করলো।
মাওঃ ইলিয়াস (রঃ)- এর নানী ফিকির করেছেন দ্বীন যেন দুনিয়া থেকে মিটে না যায়। এ জন্য তার কুমারী মেয়েকে আধা বয়সী আলেমের কাছে বিয়ে দিয়েছেন। ইলিয়াস (রঃ) কে উম্মতের নাজাতের ফিকির দিয়েছেন। রাত্রি বেলায় পায়চারী করতেন আর বলতেন আমি কি করতে পারি, আমি কি করতে পারি।
মাওঃ ইলিয়াস (রঃ) এর জামানায় দেশের বাইরে জামাত পাঠানো হয় নি। কিন্তু তিনি বলতেন বন্দরে জামাত পাঠাত্ত, সীমান্ত এলাকায় জামাত পাঠাও যাতে এর তাছির অন্য দেশে পড়ে।
মাওঃ ইলিয়াস (রঃ) একবার গাস্তে গিয়ে এক লোকের গায়ে হাত দিলে ধমক দিয়ে বলে আবার যদি গায়ে হাত দাও তবে তোমার মাথা ফাটিয়ে দিব। সাথে সাথে মাওঃ ইলিয়াস (রঃ) পায়ে হাত দিয়ে বললেন ভাই তুমি তো পায়ে হাতে দিতে নিষেধ কর নাই। পায়ে হাত দিয়ে যখন মাওঃ ইলিয়াস (রঃ) দাওয়াত দিলেন তখন সেই লোকের রাগ থেমে গেল এবং তাশকিল হয়ে গেল। * আমরা ড্রাইভার উম্মত। একটা গাড়ীর সবাই গাফেল থাকতে পারে কিন্তু ড্রাইভার পারে না। ড্রাইভার গাফেল হলে সমস্ত যাত্রীদের জীবন নাশের সম্ভাবনা থাকে। কাজেই আমাদের গাফেল থাকা যাবে না।
যে ব্যাক্তি এই দোয়া করে যে, হে আল্লাহ! পুরা উম্মতকে হেদায়েত দান করেন। তবে তার আগে যত উম্মত এসেছে, এখন যত উম্মত আছে, পরে যত উম্মত আসবে সবার পক্ষ থেকে একটা করে নেকী তার আমলনামায় লিখে দেওয়া হবে।
হুদহুদ পাখি ফিকির করেছে রানী বিলকিসের কওম হেদায়েত পেয়েছে। এক পিঁপড়া তার জাতিকে বাচাঁনোর ফিকির করেছে। এ দুটো ঘটনা কোরানে আছে। আমাদের একটু ফিকির করার কারণে হাজারো উম্মত জাহান্নাম থেকে বাঁচতে পারে।
হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সারা দুনিয়া সফর করেননি। উনার সবচেয়ে বড় সফর ছিলো তাবুক সফর। কিন্তু হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ফিকির ছিলো সারা দুনিয়া নিয়ে।
আজ দুনিয়াতে প্রতিদিন ছয় লক্ষ মানুষ মারা যাচ্ছে। এর মধ্যে সাড়ে চার লাখ মানুষ প্রতিদিন কালেমা ছাড়া মারা যাচ্ছে।
আমরা ট্রাফিক উম্মত। ট্রাফিকের একটা ভুল নির্দেশনার কারণে মুহুর্তের মধ্যে মারাত্মক দুর্ঘটনা সংঘটিত হতে পারে। আজ মুসলমান সঠিক রাহবরি না করার কারণে উম্মত জাহান্নামের দিকে যাচ্ছে।