মাওলানা জুবায়ের সাহেব | কাকরাইল মারকাজ ও তাবলীগ জামাতে তাঁর ভূমিকা
বাংলাদেশের তাবলীগ জামাতের ইতিহাসে এবং কাকরাইল মারকাজের আধ্যাত্মিক পরিবেশে যার নাম অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে উচ্চারিত হয়, তিনি হলেন মাওলানা জুবায়ের আহমেদ। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে কাকরাইল মসজিদের ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং বাংলাদেশের ওলামায়ে কেরাম ও সাধারণ মানুষের কাছে একজন গ্রহণযোগ্য মুরুব্বী হিসেবে পরিচিত। আজকের ব্লগে আমরা মাওলানা জুবায়ের সাহেব ও তাবলীগ জামাতে তাঁর ভূমিকা এবং বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করবো।
মাওলানা জুবায়ের আহমেদ তাবলীগ উইকিপিডিয়া (সংক্ষিপ্ত জীবনী)
যদিও উইকিপিডিয়াতে তাঁর সম্পর্কে খুব বিস্তারিত তথ্য সব সময় পাওয়া যায় না, তবে মাওলানা জুবায়ের আহমেদ তাবলীগ উইকিপিডিয়া বা জীবনী খুঁজতে গেলে জানা যায় যে, তিনি বাংলাদেশের একজন শীর্ষস্থানীয় আলেম। তিনি ঐতিহ্যবাহী জামিয়া কোরআনিয়া আরাবিয়া লালবাগ মাদরাসা থেকে পড়াশোনা শেষ করেন। তিনি মহান আধ্যাত্মিক সাধক ও তাবলীগের মুরুব্বী মরহুম মাওলানা আজিজুল হক (রহ.) এর সান্নিধ্যে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন এবং তাঁর কাছ থেকেই দ্বীনের মেহনতের দীক্ষা নিয়েছেন।
তাবলীগ জামাতের আমীর মাওলানা জুবায়ের?
অনেকে তাঁকে তাবলীগ জামাতের আমীর মাওলানা জুবায়ের বলে সম্বোধন করেন। মূলত তাবলীগ জামাতে বর্তমানে একক কোনো 'আমীর' নেই বরং 'শূরা' বা পরামর্শভিত্তিক পদ্ধতিতে কাজ চলে। মাওলানা জুবায়ের আহমেদ বাংলাদেশের আলমি শূরা বা ওলামা পন্থী তাবলীগ জামাতের শীর্ষ মুরুব্বী বা জিম্মাদার এবং আলমী শুরার ১১ জন সদস্যের একজন। বাংলাদেশের কওমি মাদরাসাগুলো এবং হক্কানী ওলামায়ে কেরাম তাঁকে এবং তাঁর অনুসারীদের সমর্থন দিয়ে থাকেন। তিনি বিশ্ব ইজতেমার আখেরী মোনাজাত পরিচালনা করে থাকেন।
মাওলানা জুবায়ের সাহেব কাকরাইল ও তাঁর অবদান
মাওলানা জুবায়ের সাহেব কাকরাইল মসজিদের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছেন। তিনি কাকরাইল মসজিদের ইমাম ও খতিব। প্রতিদিন সকালে ফজর নামাজের পর এবং মাগরিবের পর তাঁর দিকনির্দেশনামূলক কথা এবং ফয়সালা শোনার জন্য অসংখ্য সাথী অপেক্ষা করেন। তাঁর বিনয়, তাকওয়া এবং সুন্নতি জিন্দেগী তাবলীগের সাথীদের জন্য অনুকরণীয়।
মাওলানা জুবায়ের ও মাওলানা সাদ: প্রেক্ষাপট ও অবস্থান
তাবলীগ জামাতের বর্তমান সংকটের কথা বলতে গেলে মাওলানা জুবায়ের ও মাওলানা সাদ কান্ধলভীর বিষয়টি সামনে চলে আসে। ভারতের নিজামুদ্দিন মারকাজের বিতর্কিত মুরুব্বী মাওলানা সাদ সাহেবের কিছু বয়ান ও মতাদর্শ নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়।
বাংলাদেশের ওলামায়ে কেরাম এবং মাওলানা জুবায়ের আহমেদ মনে করেন, তাবলীগের কাজ পূর্ববর্তী তিন হযরতজীর (মাওলানা ইলিয়াস রহ., মাওলানা ইউসুফ রহ., মাওলানা এনামুল হাসান রহ.) দেখানো পথেই চলা উচিত। এই মতাদর্শগত পার্থক্যের কারণেই বর্তমানে তাবলীগ জামাত দুটি ধারায় কাজ করছে। মাওলানা জুবায়ের আহমেদ মূলধারার আলেমদের সাথে নিয়ে বাংলাদেশে তাবলীগের কাজকে বিদআত ও বিভ্রান্তি মুক্ত রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
মাওলানা জুবায়ের সাহেবের বয়ান
মাওলানা জুবায়ের সাহেবের বয়ান শোনার জন্য মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। তাঁর বয়ানের মূল বিষয়বস্তু থাকে:
- আল্লাহর বড়ত্ব ও কুদরতের একীন।
- রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহর প্রতি ভালোবাসা।
- পরকালের ভয় এবং জান্নাতের আশা।
- উম্মতের প্রতি দরদ ও ফিকির।
তাঁর বয়ানের ভাষা অত্যন্ত প্রাঞ্জল এবং হৃদয়গ্রাহী। তিনি আবেগের চেয়ে হেদায়েতের ওপর বেশি জোর দেন।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন: মাওলানা জুবায়ের আহমেদ বর্তমানে কোথায় থাকেন?
উত্তর: তিনি বর্তমানে ঢাকার কাকরাইল মসজিদেই (তাবলীগ জামাতের মারকাজ) অবস্থান করেন এবং সেখান থেকেই দ্বীনি কাজের ফয়সালা দেন।
প্রশ্ন: তিনি কি বিশ্ব ইজতেমার মোনাজাত পরিচালনা করেন?
উত্তর: হ্যাঁ, আলমি শূরার অধীনে যে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয় সাধারণত তার আখেরী মোনাজাত মাওলানা জুবায়ের আহমেদ পরিচালনা করেন।
প্রশ্ন: জুবায়েরপন্থী কারা?
উত্তর: সাধারণ মানুষের কাছে আলমী শুরার অনুসারীরা 'জুবায়ের পন্থী' হিসেবে পরিচিত। তবে এটি সাদপন্থীদের একটি চক্রান্ত এবং সুচিন্তিত মিডিয়া ট্রায়াল। জুবায়ের সাহেব (হাফিঃ) নিজেকে কখনো আমীর দাবি করেননি যে তার অনুসারীদেরকে জুবায়েরপন্থী বলা হবে!