তাবলিগের মঞ্জিলের দোয়া: সফরের আদব ও আমল

তাবলীগ জামাতে বের হওয়া সাথীদের জন্য প্রতিটি কদম ফেলার নিয়ম ও আদব রয়েছে। এক মসজিদ থেকে অন্য মসজিদে যাওয়ার পথে নতুন মহল্লায় ঢুকার ঠিক আগ মুহূর্তে যে বিশেষ আমলটি করা হয়, তাকে তাবলিগের পরিভাষায় 'মঞ্জিল' বলা হয়। এটি সফরের খায়ের ও রুহানিয়াতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের আর্টিকেলে আমরা তাবলিগের মঞ্জিলের দোয়া, এর নিয়ম এবং সফরের দোয়া অর্থসহ বিস্তারিত জানবো।

তাবলিগের সফরের মঞ্জিলের দোয়া (আমল ও নিয়ম)

তাবলিগের মেহনতে 'মঞ্জিল' বলতে শুধু একটি দোয়া পড়া বোঝায় না, বরং এটি একটি আমল। যখন কোনো জামাত তাদের গন্তব্যস্থল বা নির্দিষ্ট মসজিদের কাছাকাছি পৌঁছায়, তখন মসজিদে সরাসরি প্রবেশ না করে মহল্লার শুরুতে সম্ভব না হলে মসজিদের কিছুটা দূরে বা বাইরে একটা জায়গায় সবাই থামেন।

মঞ্জিলের নিয়ম:

  1. সাথীরা তাদের সামানা (ব্যাগপত্র) সামনে রেখে গোল হয়ে দাঁড়াবেন।
  2. জামাতের আমীর বা জিম্মাদার সাথী সংক্ষিপ্ত আকারে মঞ্জিলের উদ্দেশ্য ও কিছু হেদায়েতি কথা বা মসজিদের আদব সম্পর্কে বলবেন (যেমন: কারো জিনিস অনুমতি ছাড়া ব্যবহার না করা, দুনিয়াবী কথা না বলা, অহেতুক লাইট-ফ্যান না জ্বালানো ইত্যাদি)।
  3. এরপর সবাই মিলে হাত তুলে আল্লাহর কাছে এই নতুন মঞ্জিল বা জায়গায় খায়ের ও বরকতের জন্য দোয়া করেন।
  4. দোয়া শেষে অত্যন্ত বিনয় ও আদবের সাথে ডান পা দিয়ে মসজিদে প্রবেশ করবেন।
  5. মসজিদে প্রবেশ করে সময় থাকলে ও মাকরূহ ওয়াক্ত না হলে দুই রাকাত দুখুলুল মসজিদ নামায পড়ে নিবেন। এরপর দ্রুত মাশোয়ারায় বসে যাবেন।
তাবলিগের মঞ্জিলের দোয়া: সফরের আদব ও আমল
তাবলিগের মঞ্জিলের দোয়া: সফরের আদব ও আমল

মঞ্জিলের উদ্দেশ্যঃ

মাশোয়ারার উদ্দেশ্য এবং মঞ্জিলের উদ্দেশ্য একই। মঞ্জিলের উদ্দেশ্য তিনটি।

  1. আমরা যেভাবে আল্লাহর রাস্তায় বের হয়ে আসছি ঠিক একইভাবে এই এলাকা থেকে নগদ জামাত বের করা।
  2. নিজে এবং সাথী ভাইয়েরা কিভাবে জ্ঞানী, গুনী ও দ্বীনের দায়ী বনে যাই।
  3. এলাকায় যদি মসজিদওয়ার পাঁচ কাজ চালু থাকে তবে তা থেকে ফায়দা নেওয়া ও আরও জোরদার করা আর চালু না থাকলে চালু করা।

মঞ্জিলের দোয়া (বস্তি বা লোকালয়ে প্রবেশের দোয়া)

মঞ্জিলে দাঁড়িয়ে বা কোনো নতুন এলাকায় প্রবেশের সময় রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি বিশেষ দোয়া পড়তেন। এটিকেই ওলামায়ে কেরাম মঞ্জিলের সুন্নাহ দোয়া হিসেবে অভিহিত করেন।

আরবি দোয়া:

اللَّهُمَّ رَبَّ السَّمَاوَاتِ السَّبْعِ وَمَا أَظْلَلْنَ ، وَرَبَّ الأَرَضِينَ السَّبْعِ وَمَا أَقْلَلْنَ ، وَرَبَّ الشَّيَاطِينَ وَمَا أَضْلَلْنَ ، وَرَبَّ الرِّيَاحِ وَمَا ذَرَيْنَ ، فَإِنَّا نَسْأَلُكَ خَيْرَ هَذِهِ الْقَرْيَةِ وَخَيْرَ أَهْلِهَا ، وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ أَهْلِهَا وَشَرِّ مَا فِيهَا

মঞ্জিলের দোয়া বাংলা অর্থ

উপরোক্ত দোয়াটির বাংলা অর্থ নিচে দেওয়া হলো, যা বুঝে পড়লে অন্তরে প্রশান্তি আসে:

"হে আল্লাহ! আপনি সাত আসমান এবং তা যা কিছু ছায়া দিয়ে রেখেছে তার প্রভু। আপনি সাত জমিন এবং তা যা কিছু ধারণ করে রেখেছে তার প্রভু। আপনি শয়তান এবং সে যাদের পথভ্রষ্ট করেছে তাদের প্রভু। আপনি বাতাস এবং তা যা কিছু উড়িয়ে নিয়ে যায় তার প্রভু।

আমরা আপনার কাছে এই জনপদের (গ্রাম/শহর/এলাকার) কল্যাণ, এর অধিবাসীদের কল্যাণ এবং এতে যা কিছু আছে তার কল্যাণ প্রার্থনা করছি। এবং আমরা আপনার কাছে এই জনপদের অকল্যাণ, এর অধিবাসীদের অকল্যাণ এবং এর মাঝে যা কিছু (বিপদ-আপদ) আছে তার অকল্যাণ থেকে আশ্রয় চাই।"

মঞ্জিলের এই আমলটি সাথীদের মনে করিয়ে দেয় যে, আমরা আল্লাহর ঘর মসজিদে মেহমান হিসেবে এসেছি। তাই সর্বোচ্চ আদব রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে সফরের হক আদায় করে এবং মঞ্জিলের আদব বজায় রেখে দ্বীনের মেহনত করার তৌফিক দান করুন।

Next Post Previous Post