বিষয়ভিত্তিক মাস্তুরাতের মুজাকারা
মাস্তুরাতসহ ৩ দিন/১০ দিন/৪০ দিনের জামাতে বাদ ফজর পুরুষদের পক্ষ থেকে মা বোনদের মাঝে পর্দার আড়াল থেকে বিষয়ভিত্তিক মোজাকারা হয়। বাদ মাগরিব মা বোনেরা আপোষে আবার এই মোজাকারাগুলো নিজেরা করে নিবেন। পুরুষেরা প্রতিদিন যেকোনো একটি বিষয়ের উপর মোজাকারা করবেন। আজকে এই ব্লগে বিষয়ভিত্তিক মাস্তুরাতের মুজাকারা গুলো আমরা আলোচনা করবো।
দাওয়াতের আদব
নিজের পণ্য এবং নিজের লাভকে সামনে রেখে দাওয়াত দেওয়া অন্যান্যরা কবুল করলেও ক্ষতি, না করলেও ক্ষতি। কারণ নিজের লাভ সামনে না থাকলে দাওয়াত কবুল করলে অহংকার পয়দা হবে। কবুল না করলে তার উপর রাগ হবে লোধা আসবে। দ্বীলকে নরম ও জবানকে মিষ্টি রেখে নরম ভাষায় দাওয়াত দেয়া। নিজেকে ছোট মনে করে দাওয়াত দেয়া। সাথী সম্পর্কে ভাল ধারনা রেখে দাওয়াত দেয়া। বিনয়ের সাথে দাওয়াত দেয়া। আল্লাহ পাকের ধ্যানের সাথে দাওয়াত দেয়া। সাথীর প্রশংসা করা। বিনিময়ের আশা না করে দাওয়াত দেয়া।
গায়ের মাহরামকে দাওয়াত না দেয়া। মেয়েরা দাড়িয়ে/হাত উঠিয়ে দাওয়াত দিবে না। মেয়েরা দাওয়াত দেয়ার জন্য বাহিরে যাবে না। নতুনদের আমলের লাভের দাওয়াত দেয়া। পুরুস্কারের আশা করবো না এবং তিরস্কারের ভয় করব না। দরদের সাথে দাওয়াত দেয়া। মহব্বত, হিম্মত, হেকমতের সাথে দাওয়াত দেয়া। মেয়েরা বড়কে মেনে দাওয়াতের কাজ করবে। এই কাজের আহমিয়াত দীলে রেখে দাওয়াত দেয়া। আমি এই কাজের উপযুক্ত না। নিজেকে মোহতাজ মনে করে দাওয়াত দেয়া যে, আমার হেদায়েত আগে প্রয়োজন।
দায়ী কাহাকে বলে:
যে ব্যক্তি পরিপূর্ণভাবে আল্লাহ পাকের হুকুম মানে এবং হুজুর (সাঃ) এর তরীকার উপর চলে ও সমস্ত দুনিয়ার মানুষ কিভাবে আল্লাহ পাকের হুকুম মাননেওয়ালা এবং হুজুর (সাঃ) এর তরীকার উপর চলনেওয়ালা হয় তার জন্য চেষ্টা কোশেষ ফিকির এবং মেহনত করে তাকে দায়ী বলে।
দাওয়াতের ফজিলত
- এক কথার বিনিময়ে এক বছরের নফল এবাদতের নেকী।
- ডাকনেওয়ালা আমল করনে ওয়ালার বরাবর নেকী পাবে।
- দাওয়াতের কাজ উচ্ছ্বল আমাল/উম্বুল ফরায়েজী (অর্থাৎ সমস্ত ফরজের মা)।
- দাওয়াত থাকবে তো দ্বীন জিন্দা থাকবে। দাওয়াত থাকবে না তো দ্বীন খতম হয়ে যাবে।
- দায়ী মহল বানিয়ে আমল করে।
- ফেরেস্তা বৃষ্টির ফোটার হিসাব করতে পারে, গাছের পাতার হিসাব করতে পারে, বালু কণার হিসাব করতে পারে, কিন্তু যে দাওয়াতের কাজের জন্য ঘর থেকে বের হয় তার নেকী গুনে শেষ করতে পারে না।
- দায়ীদের দোয়া বনী ইস্রাইলের নবীদের দোয়ার মত কবুল।
- যারা সর্বহালতে দাওয়াতের কাজ করবে হুজুর (সাঃ) এর পাশেই তার জান্নাত হবে।
- দায়ীদের জন্য রয়েছে মাগফিরাত এবং সম্মানজনক রুজী।
- দাওয়াতের কাজ করনে ওয়ালাদেরকে আল্লাহ পাক কামেল ঈমানদার বলেছেন।
- দাওয়াতের কাজের জন্য ঘর থেকে বের হলে গায়ে যে ধুলা বালি প্রবেশ করবে তার জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম।
আপোষে জোড় মিল
- নিজের হক ছেড়ে দেয়া, অন্যের হক আদায় করা।
- নিজের দোষ দেখা, অন্যের গুণ দেখা।
- আপোষে সালাম দেয়া।
- সাথীর অনুপস্থিতিতে তার প্রশংসা করা।
- হাদিয়া দেয়া।
- নাম ধরে দোয়া করা।
- সাথীকে মাফ করে দেয়া।
- সাথীর জন্য মাফ চাওয়া।
- কোন কাজের সমালোচনা না করা।
- অন্যের সংশোধনের পিছনে না পড়া।
- পরামর্শের সময় সাথীর রায় না কাটা।
- সাথীর খেদমত করা।
- নিজের সংশোধন ফরজ, অন্যের দোষ ধরা হারাম।
- আপোষে জুড়ে মিলে চললে আল্লাহর রহমত নাযিল হয়।
- দুইজন লোকের ঝগড়ার কারণে শবে কদরের নির্দিষ্ট তারিখের মত এত বড় দৌলত হারিয়ে যাওয়া।
- জামাতের মধ্যে আপোষে জুড়ে মিলে চললে সেই জামাতকে কামিয়ার জামাত বলা হয়েছে।
- মৌমাছি হয়ে চলা, মাছি হয়ে না চলা।
- আল্লাহ পাক বিভিন্ন মানুষকে বিভিন্ন মেজাজ দিয়ে পয়দা করেছেন তাই সবার সাথে জুড়ে মিলে চলা।
- এক চোখ দিয়ে নিজের খারাবী দেখা, অন্য চোখ দিয়ে অন্যের ভালই দেখা।
- দায়ীর সাথে যতই মূর্খতাপূর্ণ আচরণ করা হবে ততই তার ধৈর্য বৃদ্ধি পাবে।
সবর ও ধৈর্য
- দুনিয়ার সমস্ত লোক ক্ষতির মধ্যে, চারধরণের লোক ছাড়া, তাদের মধ্যে এক শ্রেণী হল সবরকারী।
- সবর, কবর আযাবকে প্রতিহত করবে।
- সবরকারীর সাথে আল্লাহর সাহায্য।
- সবর ও শোককারীর জন্য জান্নাত।
- আল্লাহর হুকুম পালনে সবর করলে আল্লাহ পাক তার মর্যাদাকে ৩০০ গুন বাড়িয়ে দেন। প্রত্যেক মর্যাদার দূরত্ব জমিন থেকে আসমান পর্যন্ত।
- আল্লাহর নিষেধ থেকে বিরত থাকলে তার মর্যাদা ৬০০ গুন বাড়িয়ে দিবেন। প্রত্যেকটা মর্যাদার দূরত্ব ৭ আসমান থেকে ৭ জমিন পর্যন্ত।
- রোগ শোকে সবর করলে আল্লাহ পাক তার মর্যাদা ৭০০ গুন বাড়িয়ে দিবেন। প্রতিটি মর্যাদার দূরত্ব ৭ জমিনের নিচে থেকে আল্লাহ পাকের আরশ পর্যন্ত।
- বিপদের অন্তজালার মূহুর্তে সবর করা।
- বেশির ভাগ নবী আগে বকরী চড়িয়েছেন।
- দায়ীদের সবর অত্যন্ত জরুরী।
- এক লোক কর্তৃক আবু বকর (রা) কে বকা দেওয়ার ঘটনা।
- সবর করলে ঈমানের স্বাদ পাওয়া যায়।
- সবর ও নামাজের দ্বারা আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা।
- আল্লাহ তায়ালা সবরকারীদের সাথেই আছে।
- যারা আল্লাহকে ভয় করে ও সবর করে আল্লাহ পাক এই সব নেক বান্দাদের পুরুস্কার বিনষ্ট করেন না।
- জ্ঞানী ব্যক্তিদের গুণ সমূহের মধ্যে একটা গুণ হলো বিপদে তারা ধৈর্য ধারণ করে। বিপদের সময় ধৈর্য ধারণকারীদের উত্তম পুরস্কারের ওয়াদা করা হয়েছে।
- ধৈর্যশীল ব্যক্তিকে বিনা হিসাবে পুরস্কার দান করা হয়।
- বিপদ আপদে সবর ও পাপ কাজ হইতে ধৈর্য কবরের এক দিকে দাঁড়াইয়া যায় এবং আমলনামা ওজন দেয়ার সময় পাল্লা ধরে তার কাজে আসবে।
- সবর ও শোকর হল দুই গাড়ী, এই গাড়িই জান্নাতে যাবে।
- আমি কিছু ভয় ও ভীতির দ্বারা এবং কিছু ক্ষুধা পিপাসার দ্বারা এবং কিছু ধন সম্পদের ক্ষয় ক্ষতি সাধন দ্বারা তোমাদেরকে অবশ্যই পরীক্ষা করিব, সুতরাং তোমরা এই সব বিপদের সময় সবর করিবে। আর আপনি ঐ সব সবরকারীদের সুসংবাদ দান করুন যাহাদের স্বভাব হইল এই যে তাহাদের উপর যখন কোন বিপদ আসে তখন তাহারা ইন্না লিল্লাহ পাঠ করে, তাহারাই ঐ সব লোক যাহাদের উপর আপন প্রতিপালকের তরফ হইতে বিশেষ রহমত ও দয়া বর্ষিত হয় এবং তাহারা হেদায়েত প্রাপ্ত।
আল্লাহর রাস্তায় বাহির হওয়ার আদব ও আমল
- সাথী মাহরাম ও শরিফ পর্দা।
- পুরুষ জিম্মাদার, মাস্তুরাতের মধ্য হইতে কাহাকেও আমীর না বানানো।
- সফরের সময় নিজের কন্ঠ অন্য পুরুষের কানে না যাওয়া।
- চোখের হেফাযত করা।
- কেবল মাত্র আপন মাহরামের আওয়াজে শুনে বের হওয়া ঘর থেকে।
- ঘরের বাচ্চাদের হেফাযতের ব্যবস্থা করে যাওয়া।
- বাড়ীওয়ালা জিনিসপত্র ব্যবহার, কেনা-বেচা, হাদিয়া প্রদান করা হইতে বাচিয়ে থাকা। এহরামের মত থাকা।
- মাহরাম ছাড়া মহিলাদের কে উৎসাহ দিয়ে সন্ধ্যার আগেই ঘরে ফিরে যেতে বলা।
- মাস্তুরাতগণের জন্য কোন উমুমি গাস্তও নেই এবং খুসুসি গাস্তও নেই।
- নিজ এলাকায় ৩ দিনের জামাতে অবিবাহিত মেয়ে মায়ের সাথে যেতে পারে। কিন্তু ১/২ জনের বেশি জামাতে মেয়ে না যাওয়া।
- বাচ্চাদের কখনো সাথে না আনা।
- ছয় নম্বরের বাহিরে কথা না বলা।
- আল্লাহর রাস্তায় ১ হাজার আয়াত তেলায়াত করলে আল্লাহ তায়ালা তাকে আম্বিয়া, সিদ্দিকিন, শহিদান ও নেক লোকদের জামাত ভুক্ত করে দিবেন।
- আল্লাহর রাস্তায় ১ দিনের রোজার বিনিময়ে সেই ব্যক্তি মাঝে সত্তর বছরের ব্যবধান করে দিবেন।
- দাওয়াতের কাজে জন্য কিছুক্ষণ দাড়াইয়া থাকা শবে কদরের হাজার আসওয়াদের সামনে এবাদত হইতে উত্তম।
তালিমের আদব
- সময় নির্ধারণ করে নেয়া।
- অজুর সাথে বলা, সম্ভব হলে ২ রাকাত নামাজ পড়ে নেয়া।
- সতর ঢেকে নেয়া।
- শরিয়তের পাবন্দির সাথে বসা।
- গায়ে গায়ে লেগে বসা, আত্তাহিয়্যাতুর ছুরতে বসা।
- পড়নে ওয়ালার দিকে তাকিয়ে শুনা।
- বাহানা করে উঠে না যাওয়া।
- জরুরত থেকে ফারাগ হয়ে বসা।
- জরুরতকে দাবাইয়া বসা।
- এক এক হাদিস ১/২/৩ বার পড়া।
- ফায়দা এক বার পড়া, নিজের থেকে কোন ব্যাখ্যা না করা।
- নবীর নাম আসলে দরুদ পড়া।
- জান্নাতের খবর শুনে সুবহানাল্লাহ বলা এবং খুশি হওয়া।
- জাহান্নামের কথা শুনলে নাউজুবিল্লাহ বলা ও ভয় করা।
- আপোষ কথা না বলে ধ্যানের সাথে শোনা।
- তালিমের দ্বারা আল্লাহ পাকের ওয়াদা এবং ওয়ায়িদের একিন পয়দা হয়।
আলমী ফিকির ও উহা বাড়ানোর মোজাকারা
হুজুর (সাঃ) আলমী ও আখিরী নবী এবং তার উম্মত ও আলমী ও আখিরী। সুতরাং এই উম্মত কে পুরা আলম নিয়ে ফিকির করতে হবে যে, কিতাবে পুরা এবং আনেওয়ালা উম্মত জাহান্নাম থেকে বেঁচে যায় তার জন্য আমাদের সবাইকে ফিকির করতে হবে।
বিদায় হাজ্বে হুজুর (সাঃ) ১ লক্ষ বা সোয়া লক্ষ সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) কে লক্ষ্য করে এই জিম্মাদারী দিয়ে ছিলেন যে, তোমাদের দায়িত্ব হলো আমার এই কথা গুলো যারা শোনেনি তাদের কাছে পৌঁছে দেয়া এবং তারা এই দায়িত্ব পুরা করার জন্য সারা দুনিয়ার কোনায় কোনায় পৌঁছে গেছেন।
- মাত্র ১০ হাজার সাহাবীদের কবর মক্কা ও মদীনায় পাওয়া যায়, বাকী সমস্ত সাহাবাদের কবর দুনিয়ার আনাচে কানাচে রচিত হয়েছে।
- বাংলাদেশেও সাহাবাদের জামাত এসেছিল।
দোয়া
- দোয়া এবাদতের মগজ স্বরূপ।
- দোয়া মুমিনের হাতিয়ার, দ্বীনের স্তম্ভ, জমিন আসমানের নূর।
- আল্লাহ পাক বিনয়ী ও লজ্জাশীল। যখন তার কোন বান্দা দুহাত তুলে দুয়া করে তখন আল্লাহ তাঁর বান্দার হাত দ্বয়কে খালি ফিরিয়ে দিতে লজ্জাবোধ করেন।
- রাতের ১ তৃতীয়াংশ বাকী থাকতে আল্লাহ প্রথম আসমানে অবতরণ করে বান্দাদের ডাকতে থাকেন।
- একজন মুসলমান তার অন্য মুসলমান ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে দুয়া করলে তার মাথায় কাছে একজন ফেরেস্তা দোয়ার সময় নিয়োজিত থাকেন এবং সমস্ত দোয়ার মধ্যে আমীন বলতে থাকেন এবং এটাও বলেন যে, তোমার জন্যও অনুরূপ হোক।
- যার জন্য দোয়ার দরজা খুলে দেয়া হয়েছে তার জন্য রহমতের ও কবুল পথের দরজা খুলে দেয়া হয়েছে।
- তকদীরের লিখন শুধুমাত্র দুয়াই খন্ডন করতে পারে।
- যারা আল্লাহ তায়ালার নিকট দুয়া করেন না, আল্লাহ তাদের উপর রাগান্বিত হন। তোমরা আমাকে ডাক আমি তোমাদের ডাকে সারা দিব। তোমরা আমার নিকট দোয়া কর আমি কবুল করব।
- তিন ব্যক্তির দোয়া ফেরত দেওয়া হয় না: মজলুম ব্যক্তির দোয়া, ইফতারের সময় রোজাদারের দোয়া, ন্যায় বিচারক বাদশার দোয়া।
- যখন কোন মুসলমান আত্মীয় সম্পর্কচ্ছেদ বা কোন পাপাচার ব্যতিত কোন দোয়া করে তখন সে আল্লাহ তায়ালার নিকট হইতে তিনটি বিষয়ের কোন একটি অবশ্যই পাইয়া থাকে: হয়তো যে বিষয়ে দোয়া করিয়াছে উহার যথার্থ হইয়া যায় অথবা উহার পরিবর্তে তাহার উপর হইতে কোন বালামুসিবত দূরে করিয়া দেয়া হয় অথবা ঐ পরিমাণ বিনিময় আখেরাতে দেয়া হয়।
- আল্লাহ পাক বলেন, হে লোক সকল, আপন রবের নিকট বিনীত ভাবে এবং চুপে চুপে দুয়া করো। দোয়া ইবাদতের মধ্যে শামিল।
- আল্লাহ তায়ালার নিকট দোয়া অপেক্ষা উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন আর কোন জিনিস নেই।
তেলোয়াত
- তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তি উত্তম যে নিজে কুরআন শিখে ও অপরকে শিক্ষা দেয়।
- যে কালামে পাক হাসিল করিল সে যেন নিজের কপালে নাযাতের এলেম জমা করিল।
- আল্লাহর প্রীতি মহব্বতের আলামত হইল অন্তরে তাহার কালামে পাকের প্রতি মহব্বত হওয়া।
- কুরআন শরিফে মশগুল থাকার কারণে অন্য কোন এবাদতের অবসর পায় না, আল্লাহ পাক তাহাকে সকল এবাদত করণেওয়ালাদের চেয়ে বেশী দিয়ে থাকেন।
- ৩ টি জিনিষ আল্লাহর আরশের নিচে। তার মধ্যে কালামে পাক কিয়ামতের দিন তার জন্য সুপারিশ করবে, আল্লাহ পাক তার সুপারিশ কবুল করবেন।